print this page

ঢাকার আদলে খুলনায় শহীদ মিনার

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নতুন শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে। একুশের প্রথম প্রহর আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যে দিয়ে নবনির্মিত এই শহীদ মিনারের উদ্বোধন হবে।
বিকেলে হাদিস পার্কে গিয়ে দেখা যায়, শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রস্তুত ভালোবাসার শহীদ মিনার। শহীদ মিনারকে ঘিরে ২১টি সার্চলাইট এবং অসংখ্য হাই এনার্জি ডিসচার্জ (এইচইডি) বাতি লাগানো হয়েছে।
নতুন শহীদ মিনার দেখে খুলনার সরকারি মুহসীন কলেজের ছাত্রী হেলেনা আক্তার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মতোই এই মিনার। খুলনায় এমন শহীদ মিনার দেখে ভালো লাগছে।’ খুলনার আযম খান কলেজের ছাত্র নাজিম আহমেদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে চাইছিলাম খুলনায় একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার হবে। আজ সেটি পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ রাতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষকে লোয়ার যশোর রোডের (শঙ্খ সিনেমা হলের সামনের সড়কের দিকের গেট) গেট দিয়ে হাদিস পার্কের এই শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে হবে। শ্রদ্ধা প্রদান শেষে পিসি রায় সড়কের সামনের গেট দিয়ে বের হয়ে থানার মোড় এবং কেসিসি সুপার মার্কেট মোড় হয়ে যে যার গন্তব্যস্থলে ফিরে যাবেন। খুলনা সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে নগরের শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। তত্কালীন খুলনা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ভাষাসৈনিক গাজী শহিদুল্লাহ শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। পৌরসভার অর্থে শহীদ মিনারটি তৈরি করা হয়েছিল। নির্মাণের পর থেকে গত ৪০ বছর এই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা প্রদান করে আসছেন খুলনাবাসী। কিন্তু শহীদ মিনারটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় হাদিস পার্কেই নতুন একটি শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়  সিটি করপোরেশন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ মিনার আধুনিকায়নের প্রকল্প গ্রহণ করেন। তিনি মেয়র থাকাকালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। খুলনার ঐতিহ্যবাহী শহীদ হাদিস পার্ক, শহীদ মিনার ও তত্সংলগ্ন পুকুর আধুনিকায়ন প্রকল্প নামে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর শহীদ মিনারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের খরচ ধরা হয় আট কোটি ৪১ লাখ টাকা। শহীদ মিনারটির আয়তন ছয় হাজার ৮৬০ বর্গফুট। শহীদ মিনারে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাতে সহজে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন, সেজন্য একটি র্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় শহীদ মিনার। মার্চে প্রকল্পের অন্যান্য কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়িয়ে তা নির্ধারিত হয় চলতি বছরের জুনে।
গত ১৬ জানুয়ারি খুলনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বর্তমান সিটি মেয়র মো. মনিরুজ্জামান ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। মেয়র মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৭৪ সালে তত্কালীন চেয়ারম্যান গাজী শহীদুল্লাহ শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন। ২০১২ সালে তত্কালীন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক আধুনিক শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বর্তমান সময়ে শহীদ মিনারের কাজ শেষ হয়। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনার প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ রাতে খুলনাবাসী পরিপূর্ণ শ্রদ্ধায় তাঁদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে পারবেন। খুলনার নবনির্বাচিত এই মেয়র বলেন, নতুন শহীদ মিনারটি খুলনাবাসীর গর্ব হিসেবে পরিচিতি পাবে। এটি দেখলে খুলনাবাসীর মন ভরে উঠবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
0 comments

খান জাহান আলী ব্রিজ খুলনা


Khan Jahan Ali bridge was constructed over the river Rupsha at Labonchara in the Khulna city. Khan Jahan Ali Bridge is also known as Rupsha Bridge. It is the third longest bridge in Bangladesh. The bridge linked Labanchara in the city and Jabusa under Rupsa thana in Khulna. It is a 4 lane bridge and the total length of the bridge is 1360 metres (1.36 km) and width of the bridge is 16.48 metres. The bridge was constructed at a cost of Tk 724.15 crore. The bridge was built by the Roads and Highways Department with technical and financial cooperation from Japan. The work on the Rupsa Bridge project started on May 17, 2001 at Labanchara area of the city and the project was originally scheduled to be completed in November 2004 but it took more 5 months to complete. The Rupsa bridge project included construction of approach roads of total length of 8.68 kilometres—2.79 km on the eastern side starting from Tilok point of the Khulna-Mongla highway and 5.89 km on the western side starting from village Krishnanagar under Batiyaghata upazila in Khulna district. This is the third longest bridge in the country.he country.








0 comments

খুলনা হার্ডবোর্ড মিলের ভাগ্য নির্ধারণ

বিগত আড়াই মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে খুলনা হার্ডবোর্ড মিলের। আর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ চলতি মাসসহ চার মাসের। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ১০ কোটি টাকাও খরচ হয়ে গেছে। মজুদ রয়েছে মাত্র ৬০ হাজার পিস হার্ডবোর্ড। পূর্ব দর অনুযায়ী মজুদকৃত হার্ডবোর্ডের মূল্য দেড়
কোটি টাকা হলেও প্রস্তাবিত দর মোতাবেক মজুদকৃত হার্ডবোর্ডের মূল্য সোয়া তিন কোটি টাকা। এমন অবস্থায় যেমন মিলের হার্ডবোর্ড বিক্রি করা যাচ্ছে না, তেমনি নেই চলতি মূলধনও। আর চলতি মূলধনের অভাবে গত বছর ২৫ নভেম্বর থেকে মিলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ডিলারদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত হার্ডবোর্ড বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্যও বিসিআইসি ও মিল কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে উকিল নোটিশ। মজুদকৃত হার্ডবোর্ড বিক্রি করে চলতি মূলধনের যোগান দেয়া হলেও যেমন ডিলারদের টাকা বকেয়া থাকছে, তেমনি ডিলারদের পাওনা ৫০ লক্ষাধিক টাকার হার্ডবোর্ড পরিশোধ করা হলেও চলতি মূলধনের সংকট থেকে যাচ্ছে। এমন এক সংকটের মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে খুলনার ঐতিহ্যবাহী হার্ডবোর্ড মিলটি। এ অবস্থায় বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত খুলনার হার্ডবোর্ড মিলটি আদৌ চলবে কি না তা’ নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। যে কারণে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আজ বৈঠকে বসছেন মন্ত্রী, স্থানীয় এমপিসহ আ’লীগ নেতৃবৃন্দ, মিল কর্তৃপক্ষ, সিবিএ ও ডিলার সমিতির নেতৃবৃন্দ। আজকের বৈঠকে বকেয়া প্রদানসহ ডিলারদের পাওনা বিষয়ক আলোচনা হলেও আগামীকালকের বিসিআইসির বোর্ড মিটিংয়েই হার্ডবোর্ডের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে। অর্থাৎ কালকের বৈঠকেই মূলত  মিলটির বিএমআরই’র ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। বিসিআইসির বৈঠকে হার্ডবোর্ড মিলের বিএমআরইর বিষয়টি নাকচ হলে মিলটি চিরতরেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। পক্ষান্তরে বিএমআরই’র জন্য অর্থ যোগানের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে রক্ষা পাবে ঐতিহ্যবাহী এ মিলটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফার্নেস অয়েলের অভাবে গত বছর ২৫ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১২টা থেকে হার্ডবোড মিলের উৎপাদন একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। যদিও ওই সময় মিলে প্রায় ৭০ লাখ টাকার কাঠ মজুদ ছিল, যা’ এখনও রয়েছে। যা’ দিয়ে মিলটি অন্তত  ৬ মাস চালিয়ে রাখা যেত। কিন্তু ফার্নেস অয়েল না থাকায় ওই কাঠও আর কোন কাজে আসছে না।
মিলের উৎপাদন বন্ধের পর থেকে আর্থিক সংকট দূর করার জন্য বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন বা বিসিআইসির পক্ষ থেকে  ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে হার্ডবোর্ড বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু পূর্বের দেয়া ৫০ লাখ টাকার হার্ডবোর্ড পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুন করে বিক্রি না করার জন্য চাপ দেন ডিলাররা। এজন্য গত ১১ নভেম্বর ডিলারদের পক্ষ থেকে মিল কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেন খুলনার প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান প্রণেতা এ্যাড. মোঃ এনায়েত আলী। নোটিশে পূর্বমূল্যে হার্ডবোর্ড সরবরাহ অথবা ক্ষতিপূরণসহ অর্থ ফেরত দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নেয়া হলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হলে প্রায় তিন মাস হতে চললেও জবাব দেননি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ডিলারদের পাওনার ব্যাপারে গত ২ ফেব্রুয়ারী শিল্পমন্ত্রী বরাবরে ৮ পৃষ্ঠার স্মারকলিপি দেয়া হয় খুলনা বিভাগীয় হার্ডবোর্ড ডিলার সমিতির পক্ষ থেকে। যাতে মিলটির বর্তমান দুরবস্থার জন্য মিল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করা হয়। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে গত বছর ১০ কোটি টাকা দেয়া হলেও তা ‘অপচয়’ হয়েছে উল্লেখ করে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়। ওই পত্রে ৫ দফার সুপারিশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে, জমাকৃত ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দেয়া, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশীয় হার্ডবোর্ডকে টিকিয়ে রাখতে বার্ষিক লভ্যাংশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা, সুন্দরবনের আগামরা গাছের ডালপালা সরবরাহ করা, মিলে গ্যাস সংযোগ দেয়া এবং জরুরী ভিত্তিতে বিএমআরই করা।
এমনকি ওই পত্রে ১০ কোটি টাকা দেয়ার আগে ও পরের একটি তুলনামূলক চিত্রও দেয়া হয়। যাতে উল্লেখ করা হয়, আগে প্রতি পিস হার্ডবোর্ডের মূল্য ছিল ২৬২ টাকা এবং বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪০ টাকা। পূর্বে ১শ’ কেজি কাঠ থেকে ৭০-৮০ কেজি পাল্প তৈরি হলেও এখন হচ্ছে ৫০ কেজি। যা’ প্রতি একশ’ কেজিতে ২০-৩০ কেজি ঘাটতি। অপরদিকে মেইনটেন্যান্সের আগে ২৪ ঘন্টায় গড়ে ১৬শ’ থেকে ২ হাজার পিস হার্ডবোর্ড তৈরি হলেও এখন হচ্ছে মাত্র ৭শ’ পিস। এভাবে ১০ কোটি টাকা পাওয়ার পর ৫ কোটি টাকা দিয়ে মেইনটেন্যান্স করা হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে এবং উৎপাদন কম হচ্ছে উল্লেখ করা হয়।
ডিলারদের এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান না করলেও বিএমআরই জরুরী বলে মনে করছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রুহুল আমীন। তিনি বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার বিসিআইসি’র বোর্ড মিটিংয়ে বিএমআরই’র ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। বিএমআরই’র জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হলেই মিলটি টিকবে নতুবা পরিস্থিতি কোন দিকে যায় বলা যায় না।
হার্ডবোর্ড এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান ডাবলু বলেন, বিগত চারমাস ধরে শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছে না। এতে তাদের দিন চলছে অর্ধাহারে-অনাহারে। বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে তারা সম্প্রতি অবস্থান কর্মসূচী শুরু করলেও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তা’ স্থগিত করা হয়। কিন্তু মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বৃহস্পতিবারের মধ্যে বকেয়া দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও তা’ পরিশোধ হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে আজকের মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আলোচনা হবে। এজন্য তিনিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও খুলনা-৩ আসনের এমপি বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খালিশপুর থানা আ’লীগের সভাপতি এসএম সানাউল্লাহ নান্নু, হার্ডবোর্ড ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ আকতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক এস,এম মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। বিসিআইসির পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রুহুল আমিনও।
আজকের বৈঠকে ডিলারদের পক্ষ থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারীর স্মারকলিপির বক্তব্য পুনঃউপস্থাপন করা হবে বলে জানান বিভাগীয় হার্ডবোর্ড ডিলার এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম, শামসুল ইসলাম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, বর্তমান বাজার মূল্যকে উপেক্ষা করে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ হার্ডবোর্ডের যে মূল্য নির্ধারণ করছেন তাতে খুলনার ঐতিহ্যবাহী মিলটি ধ্বংস করারই শামিল। কেননা বর্তমানে আকিজ কোম্পানীর এ গ্রেডের পাইকারী মূল্য ২৭৫ টাকা, বি গ্রেডের মূল্য ২৫০ টাকা, সি গ্রেডের মূল্য ১৬০ টাকা, চায়না থেকে আমদানীকৃত হার্ডবোর্ডের মূল্য ২৪০ ও ২৬৫ টাকা, মালয়েশিয়ান এ গ্রেডের মূল্য ২৪০ টাকা এবং থাইল্যান্ডের হার্ডবোর্ডের বাজার মূল্য ৪৫০ ও ৫৫০ টাকা হলেও খুলনা হার্ডবোর্ড মিলের উৎপাদিত হার্ডবোর্ড ৫৪০ টাকা মূল্যে বাজারে চলবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, বন্ধ মিল চালু আর চালু মিল সচল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকার ৫ বছর পার করে আবার  ক্ষমতায় আসলেও এখনও খুলনাঞ্চলের মিলগুলোর দূুরবস্থা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বেদনাদায়ক। বিশেষ করে এশিয়ার বিখ্যাত কাগজকল খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলটি যেমন চালু করতে পারেনি সরকার তেমনি দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরীও বন্ধ হয়েছে। আবার টেক্সটাইল মিলের মালামাল বিক্রি করে সাড়ে ৫ কোটি টাকা সরকার নিলেও টেক্সটাইল পল্লী আলোর মুখ দেখেনি। এভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত খুলনা আবারও বঞ্চনার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর প্রতিকার হওয়া জরুরী বলেও তিনি মনে করেন।
0 comments

খুলনা নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মাানোন্নয়নে কেসিসি বদ্ধপরিকর

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মাানোন্নয়নে কেসিসি বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য নিয়ে কেসিসি কর্তৃকপক্ষ আন্তরিকতার সাথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, বস্তি এলাকার রাস্তাঘাট, পয়:নিষ্কাশন, ড্রেনেজ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন সহ দরিদ্র বস্তিবাসীদের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে হাস-মুরগী-ছাগল পালন ও বৃক্ষরোপন সহ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাদান এবং দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। সিটি মেয়র এ সব সহায়তা কাজে লাগিয়ে দরিদ্রদের সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়ানোর আহবান জানান।
সিটি মেয়র রবিবার বিকাল ৪টায় নগর ভবনে নগরীর দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
কেসিসি’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নগর অংশীরাদিত্বের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পের সুবিধাভোগী এলাকার অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে ২৭টি সিডিসি নেতৃবৃন্দের নিকট ৪০ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩’শ ১১ টাকা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ২৯টি ক্লাস্টার নেতৃবৃন্দের মাঝে ১ কোটি ৯২লক্ষ ৭৪ হাজার ৬’শ ৭২ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সদস্য সচিব তাপন কুমার ঘোষ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রকল্প কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, তছলিমা খতুন সহ সিডিসি ও ক্লাস্টার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার এ এইচ এম আকরাম হোসেন।
এর আগে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ সহ নগরীর কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
0 comments

খুলনায় ছয় মাসে দোয়েল ল্যাপটপ বিক্রি মাত্র ১০টি

যাত্রা শুরুর প্রথম ৬ মাসে খুলনায় দোয়েলের নোটপ্যাড ও ল্যাপটপ বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০টি। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে একটি ল্যাপটপও বিক্রি হয়নি। অথচ অল্প দামে মান সম্পন্ন ল্যাপটপ বিক্রি হচ্ছে টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেলিশ) খুলনা কার্যালয়ে। টেলিশের কর্মকর্তারা জানান,
দোয়েল নিয়ে কোনো প্রচারণা চালানো হচ্ছে না। অধিকাংশ মানুষই জানে না খুলনায় দোয়েল বিক্রি হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে ঢাকার একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ায় ওই মাসেই ২০টি নোটপ্যাড বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা চালালে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তাদের ধারণা।
টেলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে বাণিজ্যিকভাবে দোয়েলের যাত্রা শুরু। খুলনায় দোয়েল ল্যাপটপ ও নোটপ্যাড বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই। বিটিসিএল খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি একতলা ভবন ভাড়া নিয়ে চলছে সংস্থার বিক্রয় ও সেবা কার্যক্রম। একজন সহকারী প্রকৌশলী ও দুই জন অপারেটর খুলনা অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্রটি জানায়, অফিস শুরুর পর কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো হয়নি। এজন্য বিক্রিও হচ্ছে কম। অফিস থেকে জানা গেছে,  জুলাই মাসে খুলনা অফিসে ২টি, আগস্ট মাসে ২টি ও সেপ্টেম্বর মাসে ৩টি নোটবুক বিক্রি হয়েছে। অক্টোবর মাসে একটিও বিক্রি হয়নি। নভেম্বর মাসে একটি করে ল্যাপটপ ও নোটবুক এবং ডিসেম্বর মাসে একটি নোটপ্যাড বিক্রি হয়েছে।
জানুয়ারি মাসে একটি জাতীয় দৈনিকে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে দোয়েল ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে বলে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। ফলে এই মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে ৪টি ল্যাপটপ ও ২০টি নোটবুক বিক্রি হয়েছে। সার্ভিস সেন্টারের কার্যক্রমও চলছে।
সরেজমিন টেলিশের অফিস ঘুরে দেখা গেছে, শুরু থেকেই অফিসের কার্যক্রম চলছে ঢিলেঢালাভাবে। নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। খুলনা ও যশোর অঞ্চলের সার্ভিস সেন্টারও এখানে, অথচ অফিসে একটি লম্বা টেবিল ছাড়া কোনো আসবাপত্র নেই। প্রকৌশলী ও অপারেটরদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত চেয়ার। আলমারি না থাকায় ল্যাপটপগুলো বাক্স ভরে ফোরে রাখা হয়েছে। হঠাৎ কেউ অফিসে প্রবেশ করলে পরিত্যক্ত ঘরের মতোই মনে হবে অফিসকে।
সংস্থার খুলনার অফিস ইনচার্জ প্রকৌশলী জুবায়ের রায়হান বলেন, বর্তমানে ১৩ ও ১৪ হাজার টাকা মূল্যের নোটপ্যাড এবং ২০ ও ২১ হাজার টাকা মূল্যের ল্যাপটপ খুলনা অফিসে পাওয়া যাচ্ছে। এত দিন প্রচারণা না থাকায় বিক্রি কম ছিল। সম্প্রতি বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রচারণা চালালে বিক্রি আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক কার্যালয় হিসেবে খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ল্যাপটপ সার্ভিসের জন্য এখানে আনা হয়। সে অনুযায়ী অফিসে আরও জায়গা, আসবাপত্র ও অপারেটর প্রয়োজন। নিরাপত্তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন তিনি।
0 comments

সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে অভাবনীয় ধ্বস

সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে যে অভাবনীয় ধ্বস নেমেছে তা পূরণ হবার নয়। চলতি পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা এতই কম যা বিগত কোন বছরগুলোতে এমন অবস্থা হয়নি। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে
তেমনি চরমভাবে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশের প্রভাবের কারণেই পর্যটকদের মধ্যে এখনও ভীতি রয়েছে, রয়েছে অজানা আতংক তাই তারা সুন্দরবন ভ্রমণে আসছে না।
বনবিভাগ ও পর্যটন ব্যবায়ীরা জানান, মুলত আগস্ট থেকে মে মাস পর্যন্ত হলো সুন্দরবনের পর্যটন মৌসুম। বিগত বছরের তুলনায় চলতি ১৩-১৪ইং অর্থ বছরে সুন্দরবনে পর্যটকদের আগমন খুবই কম, যা অভাবনীয়। মৌসুমের প্রতিদিন শুধু সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে প্রায় ৫/৭ হাজার দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমের ৬ মাস অতিবাহিত হলেও এ পর্যটন কেন্দ্রে স্বল্প কয়েকজন পর্যটকদের আগমন ঘটেছে। আর এ মৌসুমের শুক্রবার করমজলে সবচেয়ে বেশি পর্যটন এসেছে। করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ইনচার্জ আ: রব বলেন, চলতি মৌসুমে শুক্রবার এ কেন্দ্রে দুই থেকে আড়াই হাজার দর্শনার্থী এসেছে। তাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৪/৪৫ হাজার টাকা।
যেখানে প্রতিদিনি ৫/৭ হাজার পর্যটক আসে সেখানে সুন্দরবনে পর্যটকদের আগমন একেবারে নেই বললেই চলে। শুক্রবার কিছু লোকজন হলে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোন লোকই যায়নি সেখানে। সুন্দরবনে পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ার বিষয়ে এ বন কর্মকর্তা আরো বলেন, মানুষের  মধ্য থেকে হরতাল-অবরোধের ভয়ভীতি কাটেনি এবং দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি ভালো না থাকলে কেউ ভ্রমণে আসতে চায় না।
এ বিষয়ে পর্যটন ব্যবসায়ী দি সাউদার্ন ট্যুরস’র মালিক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, হরতাল-অবরোধের প্রভাব সাধারণ মানুষ এবং বিদেশীদের মধ্যে অনেক দিন ধরে থাকে, যার ফলে সুন্দরবনে পর্যটকদের আনাগোনা কম। আর পর্যটক না আসায় চলতি মৌসুমের ৬ মাসে আমার ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে। এছাড়া পর্যটক আসলে বনবিভাগও রাজস্ব পায় তারাও তা পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল পশুর’র ইনফরন্ট ম্যানেজার আ: মালেক বলেন, পর্যটন মৌসুমের কোনদিনই হোটেলের সিট ফাকা থাকে না। কিন্তু পর্যটক না আসায় হোটেল এখন প্রায় পুরোটাই ফাকা। অনেকে রুম বুকিং দিয়ে আবার তা বাতিল করে দিচ্ছে।
0 comments

খুলনায় আরো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় করনের দাবী

জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মিজানুর রহমান মিজান বলেছেন, খুলনায় যে কয়টি সরকারি স্কুল ও কলেজ রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই বর্তমান সরকারের মেয়াদে আরো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় করণ করার লক্ষ
সকলকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এই ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত শহীদ সোহরাওয়ের্দী কলেজ অগ্রগণ্য থাকবে। তিনি শনিবার সকালে খুলনা শহীদ সোহরাওয়র্দী কলেজে তাকে দেওয়া সংবর্ধনা সভায় প্রথান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
সংসদ সদস্য মিজান বলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা হোসেন শহীদ সোরাওয়র্দীর নামে দেশে চারটি কলেজ রয়েছে এর মধ্যে তিনটি সরকারি আর খুলনায় এটি বেসরকারি তাই এই কলেজটিও সরকারি করণের দাবি জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন বর্তমান সরকার শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও জনগনের দার প্রন্তে পোঁছিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক গুলি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ছাত্রদেরকে লেখা-পড়ায় অধিক মনোনিবেশ এবং শিক্ষকদের স্ব স্ব দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করার আহ্বান জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ মাধব চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক শেখ দিদারুল আলমের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ঠ শিল্পপতি ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব এম এম এ সালাম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও বিশিষ্ঠ ক্রিড়া সংগঠক আজমল আহম্মেদ তপন, কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু, সাংবাদিক মকবুল হোসেন মিন্টু, এডভোকেট রজব আলী, ভাইস-প্রিন্সিপাল জিনাত জাহান চৌধুলী, অধ্যাপক রেহানা বেগম, অধ্যাপক মীরা পোদ্দার, অধ্যাপক মিনু মমতাজ, অধ্যাপক একেএম আসাদ উল্লাহ, অধ্যাপক নাইমুর রহমান, অধ্যাপক ইমরান হোসেন ও কলেজের সাবেক ভিপি টি এম আরিফ।
0 comments

খুবিতে ৫ম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশ গণিত সমিতির উদ্যোগে এবং এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন ও প্রথমআলো সহযোগিতায় ৫ম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড-২০১৩ খুলনা অঞ্চলের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সকালে(7-2-2014) বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিদ্যা

স্কুলের ডিন ও গণিত ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
তিনি এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন যে, সুপ্রাচীন কাল থেকে গণিত শিক্ষার ওপর জোর দেয়ার তথ্য পাওয়া যায়। প্রকৃত পক্ষে গণিত এমন একটি বিষয় যার প্রয়োজন দৈনন্দিন ও সব কিছুর মধ্যে এর প্রভাব রয়েছে। আমাদের জীবনও চলে নিয়মের ওপর। তাই দেখা যায় জীবনের সাথে গণিতের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে। তিনি আরও বলে যে, রাষ্ট্র, সমাজ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে যদি গণিতিক কায়দায় তথা নিয়মানুযায়ী চলতো তবে কোথাও সমস্যা হতো না।
তিনি দেশে গণিত শিক্ষার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে গণিত সেবীদের কার্যক্রম আরও জোরদারের আহবান জানান। পরে সকাল ১১টায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের ১০০ জন শিক্ষার্থীরা গণিতের উপর পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। বেলা সাড়ে ১২টায় মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ও দুপুর ২-৩০ মিনিটে পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বিজয়ী করে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।
বিজয়ীরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের সবুজ রায়হাত, রাজীব বিশ্বাস, মোঃ সাদ্দাম হোসেন, মোঃ তৈয়ুবুর রহমান, গুরুচাঁদ দাশ, পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের রাফায়েত জাকিয়া মিম, ইসি ডিসিপ্লিনের মোঃ মুরাদ শেখ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঞ্জিদ হাসান, খুলনা বিএল কলেজের জয়দেব পাল, যশোর এম এম কলেজের তন্ময় ধর।
উল্লেখ্য, আগামী ২০ মার্চ ’১৪ খুলনা বিভাগ থেকে বিজয়ী দশজন ঢাকায় মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করবেন। অনুষ্ঠানে এসময় বাংলাদেশ গণিত সমিতির সভাপতি প্রফেসর মোঃ আনোয়ার হোসেন, খুলনার সভাপতি প্রফেসর হারুনুর রশীদ, মাগুরা সোহরাওয়ার্দি কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াছ হোসেন ও যশোর এম এম কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান শৈলেশ কুমার রায়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
0 comments

খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্বর্ধনা

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বেগম রোকেয়া দিবস-২০১৩ পালন উপলক্ষে শশুক্রবার দুপুরে সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় বিভাগীয় প্রশাসন
ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে  অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের অবহেলিত রেখে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।  নারী নির্যাতন বন্ধ করতে তাদেরকে শিক্ষিত এবং সচেতন করার করার কোন বিকল্প নেই।  তিনি আরও বলেন, পিছিয়ে পড়া নারীসমাজের জাগরণে বেগম রোকেয়ার যে অবদান তা অস্বীকার করার উপায় নেই।  তিনি বেগম রোকেয়ার লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নারীদেরকে আরও বেশী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান।
    
অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারীদের মধ্যে থেকে খুলনা বিভাগে নির্বাচিত পাঁচজন শ্রেষ্ঠ ‘জয়িতা’সহ ৫০জন ‘জয়িতা’কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাঁচটি ক্যাটাগরীতে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী’ সোনালী আক্তার, ‘শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী’  সাবিনা ইয়াসমিন, ‘সফল জননী’  ফরিদা বেগম, ‘নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু’  মোছাঃ সালমা খাতুন এবং ‘সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায়’  অর্চনা বিশ্বাস।
এতে খুলনা বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন।
0 comments

এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কেএমপি’র নিষেধাজ্ঞা

এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি  (ভোকেশনাল) পরীক্ষা আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২০ মার্চে শেষ হবে। পরীক্ষার দিনগুলোতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশ এলাকায় কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরীক্ষার দিন সকাল আটটা হতে পরীক্ষা চলাকালীন
পরীক্ষা কেন্দ্রের চতুর্দিকে ২০০ গজের মধ্যে পাঁচ বা তার অধিক সংখ্যক ব্যক্তি একত্রে চলাচল করতে পারবেন না। পরীক্ষাকেন্দ্র এলাকায় কেউ কোন প্রকার অস্ত্র-শস্ত্র, ছুরি, লাঠি, বিষ্ফোরক দ্রব্যাদি বা ঐ জাতীয় কোন পদার্থ বহন করতে পারবেন না। পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশে কেউ কোন প্রকার লাউড স্পিকার বা ঐ জাতীয় কোন শব্দযন্ত্র দিয়ে উচ্চস্বরে কোন শব্দ করতে পারবেন না।
এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ  (কেএমপি) এ আদেশ জারী করেছে।
0 comments

খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে অবিক্রিত পণ্যের পাহাড়

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের পণ্য রপ্তানি থমকে গেছে। গত ৩ মাস ধরে স্বাভাবিক রপ্তানি কমে যাওয়ায় উৎপাদিত পাটজাত পণ্যের স্তূপ জমা হয়েছে গোডাউনে। বুধবার পর্যন্ত ৯টি পাটকলের গুদামে পড়েছিল ৪১ হাজার ২১ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য।
যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৮৪ কোটি টাকা। এদিকে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় চতুর্মুখী সংকটে পড়েছে পাটকলগুলো। কর্মকর্তারা জানান, আয় না থাকায় কাঁচামাল কিনতে পারছেন না তারা। অর্থের যোগান না হলে ১৫/২০ দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধের শংকা রয়েছে। অনেক পাটকলে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি দেয়া যাচ্ছে না। পণ্য উৎপাদন কমাতে একটি শিফট বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এতে শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি বাড়ছে।
খুলনার একাধিক পাটকল ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত নভেম্বর মাস থেকে পাটকলগুলোয় রপ্তানি কমতে শুরু করে। গত ৪ মাসে রপ্তানি কমে গেছে আশংকাজনকভাবে। অন্যদিকে পাটকলে পণ্যের উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। বিক্রি না হওয়ায় উৎপাদিত পণ্য জমা হচ্ছে গোডাউনে। বর্তমানে পণ্য জমতে জমতে পাটকলগুলোর নিজস্ব গোডাউনে আর জায়গা নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার চরের হাটে রাজশাহী জুট মিলের গোডাউনে পণ্য রাখতে দেখা গেছে ক্রিসেন্ট জুট মিলের কর্মকর্তাদের।
বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খুলনার ৯টি পাটকলে প্রায় ৪১ হাজার ২১ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে আলিম জুট মিলে ২ হাজার ২১৮ মেট্রিক টন, ক্রিসেন্ট জুট মিলে ৯ হাজার ৭০৭, কার্পেটিংয়ে ১ হাজার ১৯৪, দৌলতপুর জুট মিলে ৭০৪, ইস্টার্ণ জুট মিলে ৩ হাজার ৭১২, জেজেআইয়ে ৩ হাজার ৭১১, খালিশপুরে ৭ হাজার ৬০১, প্লাটিনামে ৬ হাজার ৯৪২ এবং স্টার জুট মিলে ৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন।
পাটকলগুলোর কর্মকর্তারা জানান, পণ্য রপ্তানি করে সেই টাকা দিয়ে কাঁচামাল কেনা ও শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হয়। রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রধান দু’টি কাজই বন্ধের পথে। দৌলতপুর জুট মিলে মাঝে দুই সপ্তাহের মজুরি বিলম্বে দেয়া হয়েছে। মিলের রাতের শিফট বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।
স্টার জুট মিলের প্রকল্প প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় গত ৪ মাস ধরে রপ্তানি হচ্ছে না। তার মিলে প্রায় ৮০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। তিনি জানান, পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাটকলে রাতের শিফট চালু করা হয়েছিল। এখন চাহিদা কমে যাওয়ায় সেটা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।
দৌলতপুর জুট মিলের ব্যবস্থাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৪ মাসের উৎপাদিত পণ্য গোডাউনে পড়ে আছে। বিক্রি করতে না পারায় শ্রমিকদের বেতন ও কাঁচামাল কিনতে পারছেন না। মাঝে দুই সপ্তাহ শ্রমিক মজুরি দিতে পারেননি তিনি। পরে শোধ করলেও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়ে গেছে।
বিজেএমসি থেকে জানা গেছে, খুলনার ৯টি পাটকলে প্রতিদিন কাঁচামাল হিসেবে ২ হাজার ১৪ কুইন্টাল কাচাঁপাট ব্যবহার হয়। বর্তমানে পাটকলগুলোয় গড়ে ২০ দিনের পাট মজুদ আছে। এর মধ্যে আলিম জুট মিলে মজুদ আছে মাত্র ৭ দিনের ও স্টার জুট মিলের ৬ দিনের পাট। এই কয়দিনের মধ্যে বিজেএমসি সহায়তা না করলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই দুই পাটকলে।
এমন দুরবস্থার মধ্যে বৃহস্পতিবার পাটকলগুলো পরিদর্শনে খুলনায় আসেন বিজেএমসির মহাব্যবস্থাক (উৎপাদন) আবুল হোসাইন। দৌলতপুর জুট মিল গেটে কথা হয় তার সাথে। পূর্বাঞ্চলকে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডসহ পাটজাত পণ্যের বেশ কয়েকটি বাজার হাতছাড়া হয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশের পাট পণ্যের চাহিদাও কমে গেছে। এসব কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো। তিনি জানান, আগে এই সময়ে ৮০ ভাগ কাঁচামাল কেনা হয়ে যেত কিন্তু এ বছর কাঁচামাল কেনা হয়েছে মাত্র ৫২ ভাগ। তবে এ অবস্থা উত্তরণের জন্য সবাই চেষ্টা করছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশে নতুন বাজার তৈরির চেষ্টা চলছে।
0 comments

খুলনার অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে খুলনা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ

রবিবার(2-2-2014)
বিকাল ৩টায় নগরীর হরিজন কলোনী সংলগ্ন ময়লাপোতা বস্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যান জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।
তাদের নামের তালিকা সংগ্রহ করেন। এদিকে সন্ধ্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে আসেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দের সাথে ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান পারভেজ, ১৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি নুর ইসলাম, সাধারন সম্পাদক ইউসুফ আলী খান, আওয়ামীলীগ নেতা কুদ্দুস হোসেন, নূর ইসলাম ফরাজী, হেমায়েত উদ্দিন খান, যুবলীগ নেতা হাফেজ মোঃ শামীম, মাসুদ হাসান, ইলিয়াস হোসেন সোহেল, কবির জোমাদ্দার, হাফিজা বেগম, আমিরন বেগম, আলাউদ্দিন মৃধা, জালাল মৃধা,  জয়নাল ফরাজী, ইয়াসমিন আক্তার রিতা প্রমূখ।
0 comments
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. "আমার খুলনা" - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger