খুলনা
অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের পণ্য রপ্তানি থমকে গেছে। গত ৩ মাস ধরে
স্বাভাবিক রপ্তানি কমে যাওয়ায় উৎপাদিত পাটজাত পণ্যের স্তূপ জমা হয়েছে
গোডাউনে। বুধবার পর্যন্ত ৯টি পাটকলের গুদামে পড়েছিল ৪১ হাজার ২১ মেট্রিক টন
পাটজাত পণ্য।
যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৮৪ কোটি টাকা। এদিকে
উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় চতুর্মুখী সংকটে পড়েছে পাটকলগুলো।
কর্মকর্তারা জানান, আয় না থাকায় কাঁচামাল কিনতে পারছেন না তারা। অর্থের
যোগান না হলে ১৫/২০ দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধের শংকা রয়েছে। অনেক পাটকলে
শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি দেয়া যাচ্ছে না। পণ্য উৎপাদন কমাতে একটি শিফট
বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এতে শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি বাড়ছে।
যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৮৪ কোটি টাকা। এদিকে
উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় চতুর্মুখী সংকটে পড়েছে পাটকলগুলো।
কর্মকর্তারা জানান, আয় না থাকায় কাঁচামাল কিনতে পারছেন না তারা। অর্থের
যোগান না হলে ১৫/২০ দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধের শংকা রয়েছে। অনেক পাটকলে
শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি দেয়া যাচ্ছে না। পণ্য উৎপাদন কমাতে একটি শিফট
বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এতে শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি বাড়ছে।
খুলনার
একাধিক পাটকল ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত নভেম্বর মাস
থেকে পাটকলগুলোয় রপ্তানি কমতে শুরু করে। গত ৪ মাসে রপ্তানি কমে গেছে
আশংকাজনকভাবে। অন্যদিকে পাটকলে পণ্যের উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। বিক্রি না
হওয়ায় উৎপাদিত পণ্য জমা হচ্ছে গোডাউনে। বর্তমানে পণ্য জমতে জমতে পাটকলগুলোর
নিজস্ব গোডাউনে আর জায়গা নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার চরের হাটে রাজশাহী জুট
মিলের গোডাউনে পণ্য রাখতে দেখা গেছে ক্রিসেন্ট জুট মিলের কর্মকর্তাদের।
বাংলাদেশ
জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খুলনার ৯টি পাটকলে প্রায় ৪১ হাজার ২১ মেট্রিক টন পাটজাত
পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে আলিম জুট মিলে ২ হাজার ২১৮
মেট্রিক টন, ক্রিসেন্ট জুট মিলে ৯ হাজার ৭০৭, কার্পেটিংয়ে ১ হাজার ১৯৪,
দৌলতপুর জুট মিলে ৭০৪, ইস্টার্ণ জুট মিলে ৩ হাজার ৭১২, জেজেআইয়ে ৩ হাজার
৭১১, খালিশপুরে ৭ হাজার ৬০১, প্লাটিনামে ৬ হাজার ৯৪২ এবং স্টার জুট মিলে ৫
হাজার ২৩২ মেট্রিক টন।
পাটকলগুলোর
কর্মকর্তারা জানান, পণ্য রপ্তানি করে সেই টাকা দিয়ে কাঁচামাল কেনা ও
শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হয়। রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রধান দু’টি কাজই বন্ধের
পথে। দৌলতপুর জুট মিলে মাঝে দুই সপ্তাহের মজুরি বিলম্বে দেয়া হয়েছে। মিলের
রাতের শিফট বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে
পড়েছেন তারা।
স্টার
জুট মিলের প্রকল্প প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও
বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় গত ৪ মাস ধরে রপ্তানি হচ্ছে না। তার মিলে
প্রায় ৮০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। তিনি জানান, পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়
পাটকলে রাতের শিফট চালু করা হয়েছিল। এখন চাহিদা কমে যাওয়ায় সেটা বন্ধ করে
দেয়া হচ্ছে।
দৌলতপুর
জুট মিলের ব্যবস্থাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৪ মাসের উৎপাদিত পণ্য গোডাউনে
পড়ে আছে। বিক্রি করতে না পারায় শ্রমিকদের বেতন ও কাঁচামাল কিনতে পারছেন না।
মাঝে দুই সপ্তাহ শ্রমিক মজুরি দিতে পারেননি তিনি। পরে শোধ করলেও শ্রমিকদের
মধ্যে ক্ষোভ রয়ে গেছে।
বিজেএমসি
থেকে জানা গেছে, খুলনার ৯টি পাটকলে প্রতিদিন কাঁচামাল হিসেবে ২ হাজার ১৪
কুইন্টাল কাচাঁপাট ব্যবহার হয়। বর্তমানে পাটকলগুলোয় গড়ে ২০ দিনের পাট মজুদ
আছে। এর মধ্যে আলিম জুট মিলে মজুদ আছে মাত্র ৭ দিনের ও স্টার জুট মিলের ৬
দিনের পাট। এই কয়দিনের মধ্যে বিজেএমসি সহায়তা না করলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে
পারে এই দুই পাটকলে।
এমন
দুরবস্থার মধ্যে বৃহস্পতিবার পাটকলগুলো পরিদর্শনে খুলনায় আসেন বিজেএমসির
মহাব্যবস্থাক (উৎপাদন) আবুল হোসাইন। দৌলতপুর জুট মিল গেটে কথা হয় তার সাথে।
পূর্বাঞ্চলকে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডসহ পাটজাত পণ্যের বেশ কয়েকটি বাজার
হাতছাড়া হয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশের পাট পণ্যের চাহিদাও কমে গেছে। এসব কারণে
আর্থিক সংকটে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো। তিনি জানান, আগে এই সময়ে ৮০ ভাগ
কাঁচামাল কেনা হয়ে যেত কিন্তু এ বছর কাঁচামাল কেনা হয়েছে মাত্র ৫২ ভাগ। তবে
এ অবস্থা উত্তরণের জন্য সবাই চেষ্টা করছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশে নতুন বাজার
তৈরির চেষ্টা চলছে।












একটি মন্তব্য পোস্ট করুন